জনগণের সমর্থন, ভালোবাসা ও শক্তির ওপর ভর করে বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে আপনাদের প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা ও সমর্থন দরকার। প্রিয় ভাই-বোনেরা আপনারা কি এমন বাংলাদেশ চান? তাহলে আমি সকলের কাছে ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন চাই।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা জনগণের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। জনগণের সমর্থন, ভালোবাসা ও জনগণের শক্তিতে বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সাধারণ ও খেটে-খাওয়া মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে। নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি করতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে মা-বোনেরা নিরাপদে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, নিরাপদে পথে চলতে পারবে। যেখানে শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা সুন্দর শিক্ষা ব্যবস্থা পাবে। যেখানে পড়াশোনা শেষে তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, বেকার থাকতে হবে না।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে কেউ ন্যূনতম চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না।’
একইসঙ্গে ঠাকুরগাঁওবাসীর দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আমাকে জানিয়েছেন, এ এলাকার এয়ারপোর্টটার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। বিএনপি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনের পর সরকার গঠন করলে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই এয়ারপোর্ট চালু করব।’
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চিনিকল, রেশন কারখানা ও চা শিল্প গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ে একটি ক্যাডেট কলেজ স্থাপন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ এবং একটি আইটি পার্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, ‘এবারের নির্বাচন শুধু দেশের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নির্বাচন নয়। এবারের নির্বাচন হবে দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন।’
তিনি বলেন, ‘গত এক যুগ ধরে দেশের মানুষ রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। কথা বলার স্বাধীনতা পায়নি। একইভাবে অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ থেকেও তারা পিছিয়ে পড়েছে। তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়নি। নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড শক্তিশালী করতে যে সহায়তার দরকার ছিল, তা দেয়নি বিগত স্বৈরাচার সরকার।’
তিনি বলেন, ‘আজ সময় এসেছে। আমরা ১২ তারিখের নির্বাচনে যেমন জনগণের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করব। একইভাবে আমরা দেশ পুনর্গঠনের কাজে হাত দিবো।’
নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ মওকুফ, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণ সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিশোধ, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। দেশকে খাদ্যে স্বাবলম্বী করতে চাই। বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। আমরা মা-বোনদের শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘এই কাজগুলো যদি করতে হয় তাহলে কী করতে হবে? এই দেশের মালিক কারা বলেন তো? জনগণ হচ্ছে এই দেশের মালিক। সেই জনগণের, সেই মালিকের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের পক্ষে এসব কাজ সম্ভব নয়। তাই আজ এই মঞ্চ থেকে আপনাদের সহযোগিতা চাচ্ছি, সমর্থন চাচ্ছি। আপনাদের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইছি, যাতে আমরা দেশের মানুষের জন্য আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।’
জেলা বিএনপি’র সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুসহ ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের বিভিন্ন আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।
সমাবেশ শেষে তারেক রহমান হেলিকপ্টারে নীলফামারীর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে নীলফামারী পৌরসভা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেবেন। পরে তিনি দিনাজপুরের বিরামপুরে আরেকটি নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন।