অস্ট্রেলিয়ায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় হিটলারের প্রশংসা করার অভিযোগে বাংলাদেশের জনপ্রিয় বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে ডেইলি মেইল জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘লেগ্যাসি অব ফেইথ’ সিরিজের অংশ হিসেবে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরায় বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তার ভিসা বাতিল করা হয়। বর্তমানে তাকে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারির অনলাইনে প্রায় ১ কোটি অনুসারী রয়েছে এবং তিনি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশের প্রবাসী কমিউনিটিতে বক্তৃতা দিয়ে থাকেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর আগে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে তাকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল এবং বাংলাদেশেও জনসমক্ষে প্রচার করতে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, কারণ তার বিরুদ্ধে উগ্র ও ঘৃণামূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ ছিল।
অস্ট্রেলিয়া লিবারেল সিনেটর জনাথন ডুনিয়াম বলেন, তিনি এবং অন্যান্য সংসদ সদস্যরা আজহারির অস্ট্রেলিয়া আগমনের বিষয়ে বিভিন্ন কমিউনিটি গ্রুপ থেকে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আজহারি হিটলারের প্রশংসা করেছেন, ইহুদিদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী’ ও ‘বিষাক্ত দাগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইহুদিরা বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যার জন্য দায়ী, এমনকি এইডস রোগও তারা সৃষ্টি করেছে বলে আজহারি মন্তব্য করেছিলেন।
ডুনিয়াম বলেন, তার বক্তৃতাগুলোতে হিটলারের ইহুদি নির্যাতনের প্রশংসা করা হয় এবং এতে ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়ার ইতিহাস আছে।
আজহারির এই সফর ব্রিসবেনে সোমবার শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তী তারিখে মেলবোর্ন (এপ্রিল ৩), সিডনি (এপ্রিল ৪) ও ক্যানবেরায় (এপ্রিল ৬) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
ডুনিয়াম বলেছেন, আলবেনিস সরকারের জন্য উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এমন একজন ব্যক্তিকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যিনি আন্তর্জাতিকভাবে উগ্র কার্যকলাপ ও ঘৃণাপূর্ণ বক্তৃতার জন্য সুপরিচিত।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যে ২০২১ সালে তার প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছিল, কারণ সেখানে তিনি হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছেন এমন আশঙ্কা ছিল। বাংলাদেশেও তার বিরুদ্ধে উগ্রপন্থা ও জনশান্তি বিঘ্নিত করার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
ডুনিয়াম বলেন, আজহারির বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধুমাত্র এক ধর্মীয় গোষ্ঠীর নয়, তার ঘৃণামূলক বক্তব্যের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এতে ইহুদি-বিরোধী বক্তব্য, হিন্দু ধর্মের সমালোচনা, এবং বাংলা সংস্কৃতির অবমাননা অন্তর্ভুক্ত। তবুও, এই সমস্ত তথ্য থাকা সত্ত্বেও, সরকার তাকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ সপ্তাহের শুরুতে হোম অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী টনি বার্ককে চিঠি দিয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন করেছিল। তারা সতর্ক করেছিলেন যে আজহারির বক্তৃতা ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং উগ্রপন্থী বক্তব্যকে বৈধতা দিতে পারে।