ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও মহাজোট থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা অভিযোগ করে বলেছেন, ওপর মহল থেকে তাকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নিজ পারিবারিক বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউল হক মৃধা বলেন, “গত ৫ আগস্টের জুলাই বিপ্লবে একজন যোদ্ধা হিসেবে আমি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। আমরা সংগ্রাম করে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছি। অথচ আজ আমি নিজ বাসভবনেই নিরাপদে অবস্থান করতে পারছি না। আমাকে কেন একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে?”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা। তিনি বলেন, “আমার বাড়ির পাশেই ঈদগাহ মাঠ থাকা সত্ত্বেও আমি পরিবারের সঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নিতে পারিনি। কিছুদিন আগেও পুলিশ আমার বাড়িতে এসে তল্লাশি চালিয়ে গেছে।”
জাতীয় পার্টির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল তাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করায় তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিগত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন ওপর মহল থেকে আমাকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।” তবে কারা এই চাপ দিচ্ছে—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, নির্বাচন সামনে থাকায় তিনি আপাতত কারও নাম প্রকাশ করতে চান না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটলে তিনি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান।
এ সময় তিনি সরাইল ও আশুগঞ্জসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “পূর্বে সংসদ সদস্য থাকাকালে যেসব উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, আগামী নির্বাচনে জনগণের সহযোগিতায় নির্বাচিত হলে সেগুলো বাস্তবায়ন করব।”
শেষে তিনি সবাইকে তার নির্বাচনী প্রতীক লাঙল মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।