শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ইরান ইস্যুতে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মনোনয়ন গ্রহণ ও বাতিলের বিরুদ্ধে ইসিতে ৬ষ্ঠ দিনের আপিল শুনানি চলছে আপিল দায়েরে ইসির ৭ নির্দেশনা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে মাধ্যমিকের সব বই পৌঁছাবে: এনসিটিবি অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার সময় ২৭৩ জনকে আটক করেছে নৌবাহিনী ‘রোডম্যাপ অনুসারে বিচার বিভাগকে এগিয়ে নেওয়া হবে’ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বললেন, ভেনেজুয়েলার একমাত্র প্রেসিডেন্ট মাদুরো বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ দেশে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় পৌনে ৮ লাখ প্রতিষ্ঠান দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও নিজেই আতিথেয়তা করেন খালেদা জিয়া : হামিন আহমেদ প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে তারেক রহমানের ধন্যবাদ মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তির নতুন সময়সূচি ঘোষণা শীত নিয়ে দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অফিস ‘আজই এনআইডি পাবেন তারেক রহমান’

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের জানা-অজানা

ফিচার
আপডেট : রবিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২০, ৩:৪৪ অপরাহ্ন

মসজিদটিতে মুঘল স্থাপত্যশৈলীর ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি বেশ কিছু আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শনও রয়েছে। কাবার আদলে নির্মিত অংশবিশেষ বায়তুল মোকাররমকে বিশেষ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছে

রাজধানী ঢাকার আরেক নাম “মসজিদের নগরী”। এই শহরেই অবস্থিত দেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ। ধারণক্ষমতার দিক দিয়ে এটি বিশ্বের ১০ম বৃহত্তম মসজিদ। মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬০ সালে। ইসলামিক ঘরাণার স্থাপত্য নিদর্শনটির স্থপতি ছিলেন আব্দুল হুসেন থারিয়ানি। এর আয়তন ২৬৯৪.১৯ বর্গ মিটার। মসজিদটির সব্বোর্চ গম্বুজের উচ্চতা ৩০.১৮ মিটার।

পরিচালনা
সিনিয়র ইমাম: হাফেজ মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান।

ইমাম: হাফেজ মাওলানা মুফতি মহিবুল্লাহিল বাকী নাদভী, হাফেজ মাওলানা মুফতি এহসানুল হক, হাফেজ মাওলানা মুফতি মহিউদ্দীন কাসেমী।

প্রধান মুয়াযযিন: হাফেজ ক্বারী মাওলানা কাজী মাসুদুর রহমান,

মুয়াযযিন: ক্বারী মাওলানা হাবীবুর রহমান মেশকাত, ক্বারী মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক।

ইতিহাস: ঢাকায় সর্বপ্রথম বিপুল ধারণক্ষমতার একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনার চিন্তা করেন তৎকালীন পাকিস্তানের আব্দুল লতিফ ইব্রাহিম বাওয়ানি। সে অনুযায়ী ১৯৫৯ সালে ‘‘বায়তুল মুকাররম মসজিদ সোসাইটি’’ গঠনের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পুরনো ঢাকা ও নতুন ঢাকার মিলনস্থলে মসজিদটির জন্য ৮ দশমিক ৩ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। স্থানটি নগরীর প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র থেকেও ছিল নিকটবর্তী। সে সময় মসজিদের অবস্থানে একটি বড় পুকুর ছিল। যা “পল্টন পুকুর” নামে পরিচিত ছিল। পুকুরটি ভরাট করে ২৭ জানুয়ারি, ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান মসজিদটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ১৯৬৮ সালে মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ হয়।

এ মসজিদ কমপ্লেক্সের নকশার জন্য নিযুক্ত করা হয় সিন্ধুর বিশিষ্ট স্থপতি আব্দুল হুসেন থারিয়ানিকে। পুরো কমপ্লেক্স নকশার মধ্যে দোকান, অফিস, গ্রন্থাগার ও গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৬৩ সালের ২৫ জানুয়ারি (শুক্রবার) প্রথমবারের ম এখানে নামাজ পড়া হয়।

১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এই মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে। বর্তমানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদটি আটতলা। নিচতলায় রয়েছে বিপণিবিতান ও একটি বৃহত্তর অত্যাধুনিক সুসজ্জিত মার্কেট কমপ্লেক্স। দোতলা থেকে ছয়তলা পর্যন্ত প্রতি তলায় নামাজ পড়া হয়

২০০৮ সালে সৌদি সরকারের অর্থায়নে মসজিদটি সম্প্রসারিত করা হয়।পূর্বে ৩০হাজার মুসল্লি একত্রে নামায পড়লেও বর্তমানে এই মসজিদে একসঙ্গে ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এ মসজিদের শোভাবর্ধন এবং উন্নয়নের কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

মসজিদ ভবন
মূল ভবন: বায়তুল মোকাররম মসজিদটি ৮ তলা। নীচতলায় রয়েছে বিপণী বিতান ও বিশাল মার্কেট। দোতলা থেকে ছয়তলা পর্যন্ত প্রতি তলায় নামাজ পড়া হয়।   মসজিদের অভ্যন্তরে ওযুর ব্যবস্থাসহ নারীদের জন্য পৃথক নামাজের কক্ষ ও পাঠাগার রয়েছে।

মসজিদটির ১ম তলা ২৬ হাজার ৫১৭, দ্বিতীয় তলা ১০ হাজার ৬৬০, তৃতীয় তলা ১০ হাজার ৭২৩, চতুর্থ তলা ৭ হাজার ৩৭০, পঞ্চম তলা ৬ হাজার ৯২৫ এবং ষষ্ঠ তলার আয়তন ৭৪৩৮ বর্গফুট।

জুম্মা ও ঈদের সময় বাড়তি ৩৯,৮৯৯ বর্গফুটে নামাজ আদায় করা হয়।

এছাড়া, নারীদের জন্য রয়েছে ৬ হাজার ৩৮২ বর্গফুটের নামাজের জায়গা রয়েছে যা মসজিদের তিনতলার উত্তর পাশে অবস্থিত।

পুরুষদের ওজুখানার জন্য ব্যবহৃত হয় ৬ হাজার ৪২৫ বর্গফুট। নারীদের ওজুখানার জন্য ব্যবহৃত হয় ৮৮০ বর্গফুট।

মসজিদের প্রবেশ পথটি রাস্তা থেকে ৯৯ ফুট উঁচুতে অবস্থিত।

স্থাপত্যশৈলী: বায়তুল মোকাররমের অবকাঠামো কাবাঘরের মতো। এই মসজিদটিতে মুঘল স্থাপত্যশৈলীর ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি বেশ কিছু আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শনও রয়েছে। কাবার আদলে নির্মিত অংশবিশেষ বায়তুল মোকাররমকে বিশেষ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছে।

বহিঃনকশা: মসজিদটি বেশ উঁচু। এর প্রধান ভবনটি আট তলা এবং মাটি থেকে ৩০.১৮ মিটার বা ৯৯ ফিট উঁচু। প্রধান ভবনটির রং সাদা। মূল নকশা অনুযায়ী, মসজিদের প্রধান প্রবেশপথ পূর্ব দিকে হওয়ার কথা। পূর্ব দিকের সাহানটি ২৬৯৪.১৯ বর্গ মিটারের। এর দক্ষিণ ও উত্তর পার্শ্বে ওযু করার জন্য জায়গা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ দিকে, মসজিদে প্রবেশ করার বারান্দার উপর দুটি ছোট গম্বুজ নির্মাণের মাধ্যমে প্রধান ভবনের ওপর গম্বুজ না থাকার অভাব ঘোচানো হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ নকশা
মসজিদে প্রবেশ করার বারান্দাগুলিতে তিনটি অশ্বক্ষুরাকৃতি খিলানপথ রয়েছে, যার মাঝেরটি পার্শ্ববর্তী দুটি অপেক্ষা বড়। দুটি উন্মুক্ত অঙ্গন (ছাদহীন ভিতরের আঙিনা) প্রধান নামাজ কক্ষে আলো ও বাতাসের চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করে। তিন দিকে বারান্দা দ্বারা ঘেরা প্রধান নামাজ কক্ষের মিহরাবটির আকৃতি আয়তাকার, যার আয়তন ২৪৬৩.৫১ বর্গ মিটার। সমগ্র মসজিদ জুড়েই অলংকরণের আধিক্যকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

বাগান 
মসজিদের বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে বাগান। বাগানটি মুঘল শৈলীতে নকশা করা।

মসজিদের খতিবদের তালিকা: (২০১১ সালের তালিকা অনুযায়ী)
মাওলানা আব্দুর রহমান কাশগরি (মৃত্যু: ১৯৭১ সন)
মাওলানা ক্কারী উসমান মাদানী (মৃত্যু: ১৯৬৪)
মুফতী সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আমীমুল ইহসান বারকাতী (মৃত্যু: ১৯৭৪ সন)
মুফতি মাওলানা আব্দুল মুইজ (মৃত্যু: ১৯৮৪ আনুমানিক)
মাওলানা উবায়দুল হক (মৃত্যু: ২০০৭)
হাফেজ মুফতি মোহাম্মদ নূরুদ্দীন (মৃত্যু: ২০০৯)     ভারপ্রাপ্ত
প্রফেসর মাওলানা মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন  (অবসরপ্রাপ্ত)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর