আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করার (পেশাগত দায়িত্ব পালন) অনুমোদন পাচ্ছেন না বাংলাদেশের সাংবাদিকরা। সবার অ্যাক্রিডিটেশন (স্টেডিয়ামে ঢোকার কার্ড) আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আইসিসির পক্ষ থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জানানো হয়, তারা ভারত বা শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বিশ্বকাপ কভার করার জন্য কোনো স্বীকৃতিপত্র পাবেন না।
এতে আয়োজক দেশ দুটির কোনোটিতেই মাঠে উপস্থিত থেকে ম্যাচ নিয়ে রিপোর্টিংয়ের (প্রতিবেদন করা) সুযোগ থাকছে না বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম কর্মীদের। নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশের ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও আইসিসির মধ্যে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই এই ঘটনা ঘটল।
আইসিসি তাদের বার্তায় জানিয়েছে, যেহেতু বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না, তাই বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের টুর্নামেন্ট কভার করার অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে না। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।
এর আগে গত শনিবার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।
তবে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক দাবি করেছেন যে, অল্প কয়েকজন বাংলাদেশি ফটোগ্রাফার (আলোকচিত্রী) গত ২০ ও ২১ জানুয়ারি আইসিসির অনুমোদনের ই-মেইল পেয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তাদের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ১৯৯৯ সাল থেকে বিশ্বকাপের অংশ নিলেও এর আগে থেকেই বাংলাদেশি সাংবাদিকরা আইসিসির বৈশ্বিক ইভেন্টগুলো কাভার করে আসছেন। বর্ষীয়ান সাংবাদিক আরিফুর রহমান বাবুসহ চারজন বাংলাদেশি রিপোর্টার (প্রতিবেদক) ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজিত ১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপও কাভার করেছিলেন।
বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) সভাপতি পদে থাকা আরিফুর গণমাধ্যমকে জানান, আইসিসির সহযোগী সদস্য কোনো দল যদি বিশ্বকাপে না-ও খেলে, তবুও সেই দেশের সাংবাদিকরা অ্যাক্রিডিটেশন পেতে পারেন। সবাইকে কেন প্রত্যাখ্যান করা হলো, সেটার কোনো কারণ আমি খুঁজে পাচ্ছি না। আমি বিস্মিত এবং এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আরিফুর আরও জানান, পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে তিনি ক্রীড়া সাংবাদিকদের অন্য দুটি সংগঠন— বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) ও বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস কমিউনিটির (বিএসজেসি) সঙ্গে আলোচনা করবেন।
আরিফুর বলেন, মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ অংশগ্রহণ না করায় আইসিসি অসন্তুষ্ট এবং তারা বাংলাদেশি ক্রীড়া সাংবাদিকদের জন্য দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। এটি সৌজন্য ও পেশাদারিত্বের সীমা লঙ্ঘন করে। আমি মনে করি, এই ঘটনা আইসিসির একটি অন্ধকার দিক উন্মোচিত করেছে।