প্রায় দেড় বছর ধরে চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করে আসা মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই আইনাঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে এই রদবদল নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
তাজুল ইসলামের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আইনজীবী আমিনুল ইসলামের নাম। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী দলের সদস্য ছিলেন এবং তার বিভিন্ন দুর্নীতির মামলা পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। ট্রাইব্যুনালের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে একজন অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে পরিচিত আইনজীবীকে আনার পরিকল্পনা করছে বর্তমান সরকার।
এই রদবদলের বিষয়টি আরও জোরালো হয় রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের একটি ফেসবুক পোস্টের পর। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নতুন একজনকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে সরিয়ে সেই পদে আমিনুল ইসলামকে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এই সিদ্ধান্তের কথা ইতিমধ্যে তাজুল ইসলামকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তার অধীনে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার ঘটনায় ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা পড়ে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ এসব মামলার বিচারকাজ চলছে। ইতোমধ্যে তিনটি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৬ জনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আবু সাঈদ হত্যাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলা এখন রায়ের অপেক্ষায়।
তাজুল ইসলামের মেয়াদে কেবল জুলাই গণহত্যার বিচারই নয়, বরং গত ১৫ বছরের গুম ও নির্যাতনের মামলাগুলোরও বিচার শুরু হয়েছে। মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানসহ আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিরা এখন এসব মামলায় বিচারের মুখোমুখি। আগামী ৪ মার্চ রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে। এমন এক কর্মব্যস্ত সময়ে চিফ প্রসিকিউটর পরিবর্তনের খবর ট্রাইব্যুনালের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা-ই এখন দেখার বিষয়।