শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের সুযোগ নেই : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, তদন্তে কমিটি গঠন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অস্বীকারকারীদের পাকিস্তান চলে যেতে বললেন ফজলুর রহমান জাপান সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডিতে ঢাকা মহানগর উত্তর আ’লীগের মিছিল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সাংবাদিক আলিফ হত্যা: অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কি তবে মৃত্যুফাঁদ? ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে কেউ বিতর্কিত করবেন না : প্রধানমন্ত্রী ‘ইশরাকের জন্য আরও বড় দায়িত্বের পথও উন্মোচিত হতে পারে’ কুমিল্লায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড হারিয়েছে, থানায় জিডি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য না দিলে মার্কিন ভিসার আবেদন বাতিল হতে পারে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে স্বচ্ছতা আনতে লটারি পদ্ধতি চালু : আইনমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন অসম্ভব নয়: তথ্য উপদেষ্টা আজ জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিককে বহিষ্কারের হুমকি যুক্তরাজ্যের

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অস্বীকারকারীদের পাকিস্তান চলে যেতে বললেন ফজলুর রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ন

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অস্বীকারকারীদের পাকিস্তানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু হয়েছে। অবিশ্বাস করলে পাকিস্তানে যান। যারা বাংলাদেশ স্বীকার করে না, তারা পাকিস্তানে যান।’
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের স্মরণে আয়োজিত নাগরিক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে ফজলুর রহমান বলেন, একটি পক্ষ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের ষড়যন্ত্র হিসেবে প্রচার করছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় ও খাবার দিয়েছে, অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছে। ভারতের সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতো। এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ভারতীয় সেনারাও প্রাণ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রতিবাদ করায় তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। একপর্যায়ে তার বাসা ঘেরাও করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ওই সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিরাপত্তা দেয়।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও অর্জন সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি আপনাদের আশীর্বাদে আর পাঁচটা বছর বাঁচতে চাই। আমি বাংলাদেশটাকে দেখে যেতে চাই, এটা কি বাঙালির বাংলাদেশ থাকবে, নাকি রাজাকারদের পাকিস্তান—এটা দেখে যেতে চাই।’
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু এখন মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্থান তাকে উদ্বিগ্ন করছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে ফজলুর রহমান বলেন, হিন্দু ও মুসলমানের ধর্ম আলাদা হলেও বাঙালি হিসেবে তাদের পরিচয় এক। প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে দৈনন্দিন জীবনের সংকট ও প্রয়োজন সবার জন্য একই। বাজারে চাল, ডাল কিংবা চায়ের দাম হিন্দু-মুসলমানের জন্য আলাদা নয়। তাই ধর্মীয় বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে ৩০ লাখ শহিদের আত্মত্যাগ এবং মা-বোনের সম্ভ্রম জড়িয়ে আছে। এই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতির পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও আদিবাসীদের সংস্কৃতিকেও সমৃদ্ধ করতে হবে।
সংবিধানের মূলনীতি প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। এই চার মূলনীতি পুনরুদ্ধার করতে হবে। অন্যথায় সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান এবং বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর প্রচেষ্টা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে ব্যর্থ করে দেবে।’
প্রয়াত অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, নিম চন্দ্র ভৌমিক আজীবন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পক্ষে কাজ করেছেন। কখনো সশস্ত্র, কখনো নিরস্ত্রভাবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লড়াই চালিয়ে গেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর