শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন কপ সম্মেলনে যোগ দিতে ৯ নভেম্বর তুরস্কে যাবেন প্রধানমন্ত্রী সীমান্তের ওপার থেকে গার্মেন্টস শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা: প্রধানমন্ত্রী ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখাল ডিবি শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না : হুমায়ুন কবির ট্রিলিয়ন অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী পরীমণি ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ নবাবগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৩ কর্মী গ্রেফতার দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হাসিনা-কামালের সম্পত্তি সরকারের হেফাজতে নেওয়ার উদ্যোগ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান মানিক পশারীর দাফনে বাধা : মুক্তিযোদ্ধাদের নিন্দা ৬১ বসন্তে কিং খান ব্যারিস্টার ফুয়াদকে তলব করলেন ট্রাইব্যুনাল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের সুযোগ নেই : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেট : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন
যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) ঘোষিত এই সিদ্ধান্তকে একদিকে যেমন শান্তির পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তেমনি এর দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল উদ্বেগ ও সংশয় তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুই সপ্তাহের এই সময়কে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজে বের করতে হবে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটারস এক বিবৃতিতে বলেন, এটি একটি ইতিবাচক শুরু হলেও স্থায়ী শান্তির জন্য সামনে এখনো অনেক কঠিন কাজ বাকি রয়েছে। তারা বিশেষভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এই চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় মেরুকরণ লক্ষ্য করা গেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই যুদ্ধবিরতিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনায় পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে মাত্র ৩৮ দিনে মূল সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

তবে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ইরান যেন ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্য তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা একে ইতিবাচক বললেও কোনো স্থায়ী সমাধান ছাড়াই সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই শান্তি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তেহরানের এঙ্কেলাব স্কয়ারে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘোষণায় উল্লাস দেখা গেলেও, চুক্তির কয়েক ঘণ্টা পরেই ইরানের লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগারে হামলার খবর পরিস্থিতিকে পুনরায় উত্তপ্ত করে তুলেছে।

সামগ্রিকভাবে, বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের দামের পতন এবং শেয়ার বাজারের ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি আনলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কেবল একটি সাময়িক বিরতি নাকি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির সূচনা, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর