ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের জন্য একটি সাশ্রয়ী, সহজলভ্য, মানবিক ও প্রবাসীবান্ধব হজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পবিত্র হজ পালনের খরচ কমিয়ে আনা তার দলের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের উত্থাপিত একটি তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজ মূলত একটি দ্বিরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা, যা সৌদি আরব ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। এই হজ ব্যবস্থাপনার ব্যয় মূলত দুটি অংশে নির্ধারিত হয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ খরচ নির্ধারিত হয় সৌদি আরব পর্বে, যা সম্পূর্ণভাবে সৌদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত। এই ব্যয়ের মধ্যে মিনা ও আরাফাতের তাঁবুভাড়া, পরিবহন, মক্কা-মদিনার হোটেলভাড়া, কোরবানি এবং ভিসা ও বিমা ফিসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ফি অন্তর্ভুক্ত থাকে।
অন্যদিকে, মোট খরচের মাত্র এক-চতুর্থাংশ ব্যয় হয় বাংলাদেশ অংশে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পর্বের এই খরচের বড় অংশটিই মূলত উড়োজাহাজের যাতায়াত বা বিমান টিকিটের পেছনে ব্যয় হয়ে থাকে।
খরচের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি বছর কোরবানিসহ সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা। এর মধ্যে সৌদি আরব পর্বের ব্যয় ছিল ৩ লাখ ৭৯৭ টাকা এবং বাংলাদেশ পর্বের খরচ ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৯ টাকা, যার মধ্যে বিমানভাড়াই ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত বছর সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। সেই তুলনায় এবারের হজের খরচ ১১ হাজার ৭৫ টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে এবং হজযাত্রীরা ইতোমধ্যেই এর সুফল পেয়েছেন।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সৌদি পর্বের ঘোষিত খরচসমূহ বিবেচনায় নিয়ে আগামী বছরের হজ প্যাকেজের মূল্য আরও কমানো বা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের জন্য সরকার আন্তরিক চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।