রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ জ্বালানি খাতে শেভরনের আরও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে অনুমতি পেল ৭০২ এজেন্সি ঢাকা উত্তর সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন বিদ্যুৎ সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি বলে মনে হচ্ছে : রিজভী ওমেন্স ফান্ড এশিয়া লিগ্যাল ফেলোশিপ পেলেন বাংলাদেশী আইনজীবী ইফাত হাসান শাম্মি অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি তদন্তে প্রধানমন্ত্রীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধ একাত্তরে দেশ চায়নি জামায়াত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের ২১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন আজ থেকে চালু ভারতের টুরিস্ট ভিসা, আবেদন করবেন যেভাবে ছয় দিনের প্রথম বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী মাদক প্রতিরোধে দুই পুরস্কার পেল ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন ইকোনমিক করিডোরের প্রস্তাব বেইজিংয়ের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বেসামরিক শাখায় ৫৪৮ নিয়োগ

জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন গত ৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন। এই অধিবেশনে বিশ্ব নেতাদের সাধারণ বিতর্ক অনুষ্ঠান আগামী ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দেবেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরকারের ভিশন তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিস্তারিত তথ্য আপনারা যথাসময়ে জানতে পারবেন। তবে তিনি ২১ তারিখ রওনা হবেন এবং নিউইয়র্কে ২৬ তারিখ পর্যন্ত থাকবেন। সেখানে তিনি বেশ ব্যস্ত সময় পার করবেন। তিনি জাতিসংঘে বক্তব্য দেবেন, যেখানে বাংলাদেশের নতুন রূপ ও ভিশন তুলে ধরবেন—নতুন বাংলাদেশ কেমন হবে, কীভাবে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার নির্বাচিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে তার চিন্তা ও ভিশন শেয়ার করবেন। জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরে বলবেন, কীভাবে বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি, টেকসই সমাধান ও বিভিন্ন সংকট নিরসনে একটি প্রভাবশালী ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এছাড়া আমাদের অভ্যন্তরীণ কিছু পরিকল্পনাও রয়েছে—যেমন দারিদ্র্য দূর করা, স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন আশা তৈরি করা এবং জলবায়ু সুরক্ষায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়া (যেমন ক্লাইমেট ফাইন্যান্স বা জলবায়ু তহবিলের দাবি)। এসব বিষয় তার বক্তব্যে থাকবে। পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাই এটি বেশ ব্যস্ত একটি সফর হতে যাচ্ছে। এরপর তিনি ঢাকায় ফিরে আসবেন।
একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সাইডলাইনে বৈঠকের পাশাপাশি জাতিসংঘের শরণার্থী সংক্রান্ত কনভেনশন নিয়ে কোনো আলোচনা হবে কি না? যেহেতু আমরা অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছি…। জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের ওপর একটি সাইডলাইন ইভেন্ট আয়োজন করব। আরেকজন সাংবাদিক জানতে চান, আমরা কি এবার ইউএন রিফিউজি কনভেনশনের অংশ বা কোনো চুক্তি সই করতে যাচ্ছি? জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি সফরসূচির বিষয়ে বলছি। সফরের অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আমাদের একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা বা বৈঠক থাকবে। কারণ এটি আমাদের জন্য একটি বড় অগ্রাধিকারের বিষয়। একই সঙ্গে এটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ের জন্যও অগ্রাধিকারের বিষয়। তাই আমরা একটি সাইডলাইন অনুষ্ঠান দিয়ে এটি শুরু করব এবং আমাদের মেয়াদে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে রাখতে কাজ করে যাব।
আরেকজন সাংবাদিক জানতে চান, আপনি সাইডলাইনে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা বলছিলেন। বহুপাক্ষিক (মাল্টিল্যাটারাল) ফোরামে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়ে আমাদের একটা পর্যবেক্ষণ রয়েছে…। এমন সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কার পর্যবেক্ষণ এটি? এটি কোথা থেকে এলো? সরকার থেকে কি কেউ আপনাদের এমন কথা বলেছে? সাংবাদিক বলেন, আপনি নিজেই তো বলেছিলেন যে আমরা…। এমন সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি এটা বলিনি! আমি বলেছি, কোনো বহুপাক্ষিক ফোরামে গিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করব না—এমন কথা আমি কখনো বলিনি। আপনি আমার কথা বুঝতে পারেননি বা খেয়াল করে শোনেননি। এটাই সমস্যা।
ওই সাংবাদিক বলেন, সে ক্ষেত্রে জাতিসংঘের এই বহুপাক্ষিক ফোরামে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাইডলাইনে আমাদের বৈঠক হচ্ছে না—এমনটাই ধরে নেব? জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনার প্রশ্নটি সঠিক জায়গায় নেই। ভারতের বিষয়টি মাথা থেকে বের করুন। ভারত কেবল আরেকটি প্রতিবেশী দেশ, যার সঙ্গে আমরা ভালো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চাই। সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার—সব সময় খালি ভারতের কথাই ভাবলে চলবে না। নিজের দেশের কথা ভাবুন! যার সঙ্গে যখন দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক কথা বলা দরকার, আমরা অবশ্যই তা বলব। কিন্তু সাইডলাইনে সবার সঙ্গে তো আর দেখা করা সম্ভব নয়। তবে আমাদের অনেক আমন্ত্রণ থাকবে এবং অনেক দেশের সঙ্গে আলোচনা হবে।
আরেকজন সাংবাদিক জানতে চান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের (মার্কিন প্রেসিডেন্ট) সঙ্গে কি সাইডলাইনে বৈঠকের কোনো সম্ভাবনা রয়েছে? জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধান উপদেষ্টার এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখা। সাইডলাইনের বৈঠকগুলো অনেক সময় শেষ মুহূর্তে ঠিক হয়। আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে শেষ মুহূর্তে অনেক কিছু বদলায়—এমনকি ওই দিনই হয়তো কেউ এসে বলতে পারেন যে তিনি আমাদের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে চান। এ ধরনের বড় সম্মেলনে এমনটাই ঘটে থাকে। সাইডলাইনে কাদের সঙ্গে বৈঠক হবে, তা সময় হলেই আপনারা জানতে পারবেন। আপনাদের মাধ্যমেই দেশের মানুষ জানবে, তাই আপনারাই প্রথম জানতে পারবেন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর