সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ড. ইউনূস ও তার উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট দেশ পুনর্গঠনই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা : প্রধানমন্ত্রী ফ্রিজে কাটা তরমুজ রাখলে মানতে হবে যেসব নিয়ম স্থায়ী জামিন পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর, নেই বিদেশে যেতে বাধা জ্বালানি সংকট সমাধান ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগে আস্থা ফিরবে না: বিডা চেয়ারম্যান মোটরসাইকেল চালকদের জন্য দুঃসংবাদ বাসস কর্মচারী ইউনিয়নের অভিষেক অনুষ্ঠিত ট্রাম্পের এক পোস্টে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ বিয়ের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ চান, জেনে নিন শর্তগুলো বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর পিএসকে গুলি করে হত্যা জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী চবি শিক্ষার্থী আনিকা ‘অবরুদ্ধ’ —স্বামীর অভিযোগে ভিকটিমকে উদ্ধারে আদালতের সার্চ ওয়ারেন্ট ঢাকায় ডিসি সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করবে না যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প বিজয়নগরে জিপিএ–৫ প্রাপ্ত ৫৬ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও বৃত্তি

চবি শিক্ষার্থী আনিকা ‘অবরুদ্ধ’ —স্বামীর অভিযোগে ভিকটিমকে উদ্ধারে আদালতের সার্চ ওয়ারেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নাট্যকলা বিভাগের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈমা সলসাবিল আনিকাকে (২২) দীর্ঘ সাত মাস ধরে ‘অবৈধভাবে’ আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। পরিবারের বাধার মুখে এই শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। এমনকি আদালত থেকে উদ্ধারের পরোয়ানা জারি করা হলেও স্বামীর কাছে ফিরতে পারছেন না তিনি। উল্টো আনিকার স্বামী রেজাউল হায়াত শান্তর ওপরএকাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।

​জানা যায়, চবির নাট্যকলা বিভাগের নাঈমা সলসাবিল আনিকা এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সের শিক্ষার্থী) রেজাউল হায়াত শান্তর মধ্যে আড়াই বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বছরের ২৩ মার্চ তাঁরা শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে ১৬ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে আইনি স্বীকৃতি নেন এই দম্পতি। বর্তমানে নাঈমা সলসাবিল আনিকার স্বামী রেজাউল হায়াত শান্ত কুমিল্লা ক্যামিয়ান কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বিয়ের পর প্রায় ছয় মাস তাঁরা সুখে শান্তিতে সংসার করছিলেন।

​অভিযোগ উঠেছে, গত বছরের ২৪ আগস্ট ২০২৫ থেকে আনিকাকে তাঁর পরিবার জোরপূর্বক আটকে রেখেছে। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এখন হুমকির মুখে। স্বামী শান্তর দাবি, একটি বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক নষ্ট করতেই আনিকাকে পরিকল্পিতভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

​আনিকার উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে তাঁর পরিবারের হাতে বেশ কয়েকবার লাঞ্ছিত হয়েছেন রেজাউল হায়াত শান্ত। এ বিষয়ে গত ১৫ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ১২৯৫) করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, পথ আটকে শান্তকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০ এপ্রিল নাঙ্গলকোট থানায় আরও একটি জিডি (নং ১১৬৫) করেন শান্ত। তাঁর অভিযোগ, আনিকার মা ও স্বজনরা ফোনে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।

​স্ত্রীর অবরুদ্ধ দশা কাটাতে শান্ত চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা (ফৌ: মিছ মামলা নং- ১০১৩/২০২৫) দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় নাঈমা সলসাবিল আনিকাকে উদ্ধারের জন্য তল্লাশি পরোয়ানা (সার্চ ওয়ারেন্ট) জারি করেছেন।

​ক্ষোভ প্রকাশ করে নাইমার স্বামী রেজাউল হায়াত শান্ত বলেন, “আনিকার ব্যক্তিত্বকে চরম অবমাননা করে তাঁকে ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছে। একজন মেধাবী ছাত্রীর শিক্ষাজীবন এভাবে ধ্বংস করার অধিকার কারও নেই। আমিপ্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই, অবিলম্বে আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হোক। আমি স্বামী হিসেবে আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই।”

এ বিষয়ে আনিকার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর স্বাধীনভাবে চলাফেরা এবং বৈবাহিক জীবন বজায় রাখার আইনি অধিকার থাকলেও, এই ঘটনায় তা লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এবং সংসার রক্ষা করতে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর