শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ভর্তুকি মূল্যে সয়াবিন তেল বিক্রি করবে টিসিবি বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর সঙ্গে ইতালির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী ‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গিয়ে অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রী মোটরসাইকেল মালিকদের থেকে অগ্রিম আয়কর যেভাবে আদায় করা হবে গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিধ্বস্ত রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির আট দিনব্যাপী কর্মসূচি হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত ডিজে সনিকা মির্জা আব্বাসের সুস্থতাকে বিষ্ময়কর হিসেবে দেখছেন ডাক্তাররা : আফরোজা আব্বাস ড. ইউনূস ও তার উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট চাঁদপুরে বিশাল জনসভা: বিভিন্ন সংগঠনের যোগদান, খাল খনন কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন দেশ পুনর্গঠনই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা : প্রধানমন্ত্রী ফ্রিজে কাটা তরমুজ রাখলে মানতে হবে যেসব নিয়ম স্থায়ী জামিন পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর, নেই বিদেশে যেতে বাধা

দোকানিকে থানায় ধরে নিয়ে নির্যাতন, দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ফরিদপুর প্রতিনিধি
আপডেট : শুক্রবার, ১১ আগস্ট, ২০২৩, ৯:৫৯ অপরাহ্ন
নির্যাতনের শিকার আব্দুর রব মোল্লা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে সিগারেটের প্যাকেট বদলে না দেওয়ায় ফাস্ট ফুডের দোকানি আব্দুর রব মোল্লাকে (৩৫) দোকান থেকে মারতে মারতে থানায় নিয়ে হাজতে ঢুকিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা চরভদ্রাসন থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শিমন খানকে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম মুন্সীকে শুক্রবার সকালে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আব্দুর রব মোল্লা ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহজাহানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি বর্তমানে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আব্দুর রব মোল্লা সদরপুর উপজেলার আকটের চর ইউনিয়নের ওয়েদউদ্দিন মুন্সীর ডাঙ্গী এলাকার আব্দুল বারেক মোল্লার ছেলে। চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের সামনে তার ফাস্ট ফুডের দোকান রয়েছে। গত বুধবার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে তার দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বরাত দিয়ে আব্দুর রব মোল্লা জানান, থানার এএসআই শিমন, এসআই ইব্রাহিম ও তাদের সঙ্গে থাকা কনস্টেবল সাব্বির তার দোকানে আসে। একপর্যায়ে শিমন খান তাকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারা শুরু করেন। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন দুই পুলিশ সদস্য। তিনি তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে মারতে মারতে থানায় নিয়ে যান। থানায় নিয়ে তাকে হাজতে ঢুকিয়ে ওই তিন পুলিশ সদস্য তার ওপর অমানবিক নির্যাতন করেন। তাকে রোলার ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

শিমনের রাগের কারণ উল্লেখ করে তিনি জানান, এ ঘটনার আগের দিন মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) বিকেলে এএসআই শিমন তার দোকানে এসে কুড়ি শলাকার বড় এক প্যাকেট ব্যানসন সিগারেট বদলে দশ শলাকার দুটি ছোট প্যাকেট দিতে বলেন। দোকানে ছোট প্যাকেট না থাকায় সিগারেটের প্যাকেট বদলে দিতে পারবেন না বলে জানান। এ সময় তারপরে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান এএসআই শিমন। পরে স্থানীয় বিশিষ্ট এক ব্যক্তি থানায় গিয়ে মুচলেকা দিয়ে তাকে (রব) ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।

আহত আব্দুর রব মোল্লাকে গত বুধবার রাতে প্রথমে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে বুধবার রাতেই ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করা হয়।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল বৃহস্পতিবার আব্দুর রব মোল্লার এক্সরে এবং শুক্রবার সিটি স্ক্যান করা হয়েছে।

এ ঘটনার একটি সিসি ফুটেজের ভিডিওতে দেখা যায়, চরভদ্রাসন থানার এএসআই শিমন খান, এসআই ইব্রাহিম ও সাব্বির নামে তাদের এক সহযোগী কনস্টেবল চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থিত আব্দুর রব মোল্লার দোকানে যান। এর কিছুক্ষণ পরে তারা দোকানদার আব্দুর রব মোল্লাকে মারতে মারতে বের করে নিয়ে যান।

নির্যাতনের শিকার আব্দুর রব মোল্লার স্ত্রী সাবিনা বেগম বলেন, এ ঘটনার পর আমাদের দোকানের কাজে নিয়োজিত আমার স্বামীর সহযোগী ছেলেটি আমাকে ফোন দিয়ে বলে, ভাবি আপনাকে থানায় ডাকে। থানায় গিয়ে দেখতে পাই তাকে আলাদা একটা রুমে আটকায় রাখছে। সেখানে পৌঁছে দেখি, আমি থানায় যাওয়ার আগেই তাকে অনেক মারধর করেছে। উনি চেয়ারে বসা ছিলেন, উঠতেও পারেন না, এমনভাবে মারছে। সাধারণ একটা মানুষের সঙ্গে এমন করছে। আমরা এর বিচার চাই।

জানতে চাইলে এসআই শিমন খান বলেন, ওই দোকানদার বেয়াদাবি করেছিল। একটা ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল। পরে তা মীমাংসা হয়ে গেছে।

চরভদ্রাসন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা জানান, এ ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. শাহজাহানের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এএসআই শিমন খানকে এবং শুক্রবার সকালে এসআই ইব্রাহিমকে চরভদ্রাসন থানা থেকে প্রত্যাহার করে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশ পাওয়া মাত্রই এ নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর