বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২২৪ কারাবন্দিকে আইনি সহায়তা বর্তমান পোশাকে সন্তুষ্ট নয় পুলিশ সদস্যরা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিকল্প দায়িত্বে থাকবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : প্রজ্ঞাপন জারি সারাদেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা, থাকছে শিলাবৃষ্টির আশঙ্কাও প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন : আইনমন্ত্রী ভাড়া বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই, বাড়তি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা : সেতুমন্ত্রী ঈদের দিন ব্যতীত সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে বড় রদবদল যুদ্ধ চালাবেন নাকি সরে আসবেন, কঠিন সিদ্ধান্তে ট্রাম্প ইরানের হামলায় ৩৩৬৯ ইসরায়েলি আহত ঈদের ছুটি শুরু মঙ্গলবার, টানা ৭ দিন বন্ধ থাকবে সকল অফিস আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ আইসিইউতে মির্জা আব্বাস, নেওয়া হবে সিঙ্গাপুর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন মির্জা আব্বাস

নানা অনিয়মের অভিযোগ: ফরিদপুর-১ আসনে পুনর্নির্বাচনের দাবি স্বতন্ত্র প্রার্থীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বুধবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৪, ৫:১৪ অপরাহ্ন
আরিফুর রহমান দোলন। (ছবি : সংগৃহীত)

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনের ভোট পুনরায় গণনা ও নির্বাচনী অনিয়ম হওয়া অর্ধশতাধিক ভোটকেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঈগল প্রতীক) আরিফুর রহমান দোলন।

বুধবার (১০ জানুয়ারি) তথ্য-প্রমাণাদিসহ ফরিদপুর-১ আসনের অর্ধশতাধিক কেন্দ্রে নির্বাচনী নানা অনিয়ম তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে এক আবেদনে দোলন এ দাবি জানান।

৭ জানুয়ারির ভোটে ফরিদপুর-১ আসনে ঈগল মার্কার প্রার্থী দোলন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবদিক দিয়ে এগিয়ে ছিলেন। ভোটের দিন নির্বাচনি এলাকায় আলোচিত হেভিওয়েট এই প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন বলে এলাকায় জল্পনাও শুরু হয়।

তবে ভোটের শেষ ঘণ্টায় অর্ধশতাধিক কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম ও নৌকার পক্ষে জাল ভোটের খবর আসতে থাকে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সহায়তায় এসব কেন্দ্র থেকে ঈগল মার্কার এজেন্টদের বের করে দেওয়ার খবরও আসে গণমাধ্যমে।

সিইসির কাছে অভিযোগে আরিফুর রহমান বলেন, ফরিদপুর-১ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী অনিয়ম, নন-ভোটার দিয়ে ভোট দেওয়া, অনেক কেন্দ্র থেকে ঈগল প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেওয়া, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনসহ ব্যাপক জালভোট দিতে দেখা গেছে একজন বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে। মৃত ব্যক্তি, প্রবাসীদের ভোটও নেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়মের বিষয়ে প্রিসাইডিং অফিসারদের অবগত করলেও তাদের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে জানানোর পরেও প্রতিকার মেলেনি। নির্বাচন কমিশনের সচিবকে সরাসরি মোবাইলফোনে বার্তা পাঠিয়েও কোনো ফল হয়নি। জালভোট পড়ার বিষয়ে একাধিক কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসারদের ঈগল প্রতীকের এজেন্ট ও কর্মী-সমর্থকরা জানালে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিয়ে সন্দেহজনক আচরণ করেন।

অভিযোগে আরিফুর রহমান দোলন আরও উল্লেখ করেন, ফরিদপুর-১ আসনের বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকে ভোট কারচুপির উদ্দেশে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর সমর্থকরা অবস্থান নেন। কেন্দ্র এলাকায় তারা আমাদের (ঈগল প্রতীক) কর্মীদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলের ওই প্রার্থীর লোকজন প্রিসাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে অনেকগুলো কেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করে ব্যালট পেপারে ওই প্রার্থীর প্রতীকে সিল মারে।

ঈগল প্রতীকের এজেন্টদের ভোটগ্রহণ শুরুর এক ঘণ্টা পর কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় অভিযোগ করে দোলন আবেদনে বলেন, ৭ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হলে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের ভোট গণনার কক্ষে রেখে আমার এজেন্টদের ওই কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এর আগেই ভোটের মনগড়া ফলাফল লেখা কাগজে জোর করে আমার এজেন্টদের স্বাক্ষর রাখা হয়। সেখান থেকে ওই বিশেষ প্রার্থীর এজেন্ট ছাড়া অন্য প্রার্থীর এজেন্টদেরও বের করে দেওয়া হয়।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) চেয়েছিল একটি সুষ্ঠু ভোট করতে। নির্বাচন ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়াতে। নির্বাচনী আইনের যথাযথ প্রয়োগের মধ্য দিয়ে প্রার্থীর অধিকার সুরক্ষায় নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে। তাই ফরিদপুর-১ আসনে আরও যে কেন্দ্রগুলোতে ভোট গণনায় অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে সেখানেও পুনরায় ভোট গণনার দাবি করছি।

অভিযোগে দোলন আরও বলেন, ভোট শেষে রাতে ফলাফল ঘোষণার সময় ফরিদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল আহসান তালুকদার নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট না বলে সরাসরি ওই প্রার্থীকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। সেসময় বিষয়টি জানতে চাইলে সেই মুহূর্তে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা নেই বলে জানানো হয়। প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা যদি সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে না থাকে তাহলে ওই বিশেষ প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলো কীসের ভিত্তিতে। এতে বোঝা যায়, নৌকার প্রার্থী দ্বারা তিনি প্রভাবিত।

এমনকি একদিন পর ৮ জানুয়ারি রাত ৮টায় জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হয়। ভোটের ফলাফলে কারচুপি করতেই এসব নাটকীয়তার আশ্রয় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ আলোচিত এ এমপি প্রার্থীর।

নির্বাচনী নানা অনিয়ম এবং বিজয়ী নৌকা প্রার্থীর পক্ষে জালভোট পড়ার কারণে নির্বাচনে ভোটের সঠিক ফলাফল না পাওয়ার অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী দোলন। যে কারণে তিনি ফরিদপুর-১ আসনের ভোটের ফল পুনরায় গণনা এবং অনিয়ম হওয়া কেন্দ্রগুলোর ফলাফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন দাবি করেছেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর