বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ক্রিকেটার নাসির-তামিমার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি: রায়ের আগে আসামিপক্ষের ‘নিশ্চিত খালাস’ প্রচারণায় জনমনে বিভ্রান্তির তীব্র নিন্দা শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা : রায় ঘোষণা আজ তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের পুনর্গঠনের মহান স্থপতি : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী রায়ের আগেই ‘শতভাগ খালাস’ পাওয়ার দাবি: নাসির-তামিমা মামলা ঘিরে নতুন বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে আগাম আত্মবিশ্বাস বিশ্বব্যাপী আরও বেড়েছে ইসরাইলবিরোধিতা পদোন্নতি না পেয়ে অবসরের আবেদন পুলিশ কর্মকর্তার ভর্তুকি মূল্যে সয়াবিন তেল বিক্রি করবে টিসিবি বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর সঙ্গে ইতালির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী ‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গিয়ে অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রী মোটরসাইকেল মালিকদের থেকে অগ্রিম আয়কর যেভাবে আদায় করা হবে গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিধ্বস্ত রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির আট দিনব্যাপী কর্মসূচি

পলকেই পিছু স্মৃতির হাতছানি : নুসরাত মারিয়ম

নুসরাত মারিয়ম
আপডেট : শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

সেই দিনটা ছিলো ফাগুনের পরশ মাখানো মিষ্টি বাতাসে ছুয়েছিলো অবয়ব মন। বসন্তের ফুলের সুভাষে জগত সংসার ভেসেছিলো আসমান-জমিন। এমন কি অতল সমূদ্র! আহা ঘ্রাণ! ফাগুনের আগুন ঝরা রক্তিম ফুলে কৃষ্ণচূড়ায় কল-কাকলীর তান। এ যেন প্রশান্তময় এক অরোরা ভোর।

শরীর পোড়ানো নয় এ রোদ..
স্নিগ্ধ কোমল পরশে খিলখিলিয়ে উঠলো ধরাধাম। ছুটছিলো খলবল করে ঝরণার আকুল করা লয় তান, নদ-নদী পার হয়ে সমূদ্র মোহনায় চললো, আর ধরলো সুখানন্দের গান।

হঠাৎ অমি তার আদুরে একমাত্র পুত্রের স্কুলের ব্যাগটা নিয়ে বাসায় ঢুকতে না ঢুকতেই কাচ ঘেরা জানালা হতে দৃষ্টির সীমানায় উঁকিঝুঁকি দিলো বিশালতায় ভরপুর গগনে। নীল-আসমানে চোখ রাখার জন্য অমি ব্যাগটা হাতে নিয়ে এগিয়ে জানালার কাছে চললো। ব্যাগের সাথে জানালায় ঝুলানো ডোর বেলের টুং টাং আওয়াজে অমি আনমনে হারিয়ে গেলো দূর অজানায়।

অপলক দৃষ্টিতে নীলাভার পথে চলছে শ্বেত-শুভ্র মেঘের ভেলার দ্বিগবিদিক ছুঁটাছুঁটি। আহ্ নৈসর্গিক সৌন্দর্য অবলোকনে অমি ভেসে গেলো ছেলেবেলার স্বর্ণালী ছোঁয়ায় ভরপুর স্কুল বারান্দায় সেই মাহেন্দ্রক্ষণে!

একের পর এক স্মৃতি পাতার ঝাপি চললো খুলে করোটির কোটরে । টুং টুং ঘন্টার আওয়াজ অমি কে মুহূর্তেই নিয়ে গেলো তার স্কুলের বারান্দায় ঝুলানো পিতলের ঘন্টার কাছে।

“আহ্ কি মধুময় ক্ষণ
আনন্দ উল্লাসে মাতোয়ারা
সদাই বন্ধু প্রিয়জন”

এই তো সেইদিন স্কুল ব্যাগ কাঁধে করে স্কুল যাওয়ার কথা। অমি ছিলো অনেক ডানপিটে আর ভীষণ দুরন্ত চঞ্চল স্বভাবের এক আদুগাদু মেয়ে। বাসায় তার মত শান্ত ভদ্র ইহজগতে দ্বিতীয় কোন শিশু ছিলো কিনা সন্দেহ! মা বড় হয়ে অমি’র কান্ডকারখানা দেখে বিস্মিত হতো প্রায়শ-ই। তুই তো আমার অতি শান্ত একটি আদুরে মেয়ে। এত দুষ্ট হলে কবে হতে? যখন অমি অনার্স ফাইনাল ইয়ার পড়তো তখন তিনি এই প্রশ্ন ছুঁড়তেন।

স্কুলে গিয়ে বেঞ্চে ব্যাগ রেখেই ভোঁদৌড় খেলার মাঠে। স্কুলে গেটে প্রবেশের পূর্বেই প্লান করে ফেলতো স্কুলে মাঠে আজ কোন কোন বান্ধবীদের সাথে সি-বুড়ি, দাড়িয়াবান্ধা খেলবে। তাই সে বাসা হতে একটু আগেই বের হয়ে যেতো স্কুলের পথে। মা তার চাকুরীজীবি। সকাল ৮ টার মধ্যে বের হয়ে যেতো বাসা হতে অন্য উপজেলায় ছিলো তার অফিস।

মাঠের মেইন জায়গাটা সব সময় অমি ও তার দলবল এর ছিলো সি-বুড়ি, দাড়িয়াবান্ধা খেলার জন্য বরাদ্ধ । ঐ জায়গা দখল করার মত সেই স্কুলের কোন ছাত্রীদের সাহস ছিলো না। অমি যেদিন স্কুল off যেতো অসুস্থতায়। তখন অন্যরা হাফ ছেড়ে বাঁচতো ঐ জায়গা খেলার সুযোগ মেলাতে।

ক্লাস শুরু হলেই শুরু হতো সময় গুনন, কখন ৩:১৫ মিঃ ঢং ঢং ঘন্টা বেজে উঠবে টিফিনের জন্য। আর অমনি টিফিন টাইমে অমি ও তার বান্ধবীরা মিলে বেঞ্চে বসে বসে মনের মত কন্ঠ ছেড়ে গান গাওয়া।

ছেলেবেলা মনে হতো কখন বড় হবো? পড়াশুনা শেষে চাকুরী করবো? স্বাধীন মত ঘুরবো? আর আজ গানের লাইনা ভিতর দিয়ে বেজে উঠে…..
মনে পড়ে যায় বন্ধুদের আড্ডা মুখর প্রহর তুমুল উল্লাসে ভরা প্রিয় শহর!!!! কে? কোথায়?কেমন আছে অনেকের কথাই জানে না। হয়তো ব্যস্ত সবাই তার জগত সংসার নিয়ে। হয়তো মেলে না সময় তবুও সেইক্ষণ ফিরে পেতে চায় ফেরারি এ হৃদয়……..

উহ্! কি আশ্চর্য এই ভবের জগত। এটা নেই, ওটা চাই। ওটা পেলে এটা চাই! ইচ্ছে হয় সেই ছেলেবেলা স্কুল জীবন ফিরে পেতে…হইচই করে বান্ধবীদের সাথে ঘুরে বেড়াতে। কিন্তু সেই ফুসরত কোথায়? বন্ধু-বান্ধব বিহীন এই একাকী জীবন ভালো লাগে না তার…..

কি করবে? ভাবতে না ভাবতেই অকস্মাৎ ছেলে দৌঁড়ে এসে হাতটা ধরে বললো, আম্মু তুমি কই হারায়ে গেলে? ছেলের কথায় সম্বিৎ ফিরে পেলো অমি, ছেলের দিকে তাকায়ে ভাবলো আসলেই ক্ষণিকের তরে কোথায় হারায়ে গেলাম এই আমি! আহা রে জনম, সহস্র বছর বড্ড সাধনায় প্রাপ্তি এ জনম।

এই জীবন আসলেই তার আর ভালো লাগে না। অমি ফিরে পেতে চায় বন্ধুদের আড্ডার হিরন্ময়ক্ষণ গুলো। ঢাকা শহরে অবয়ব পড়ে থাকলেও, ছেলেবেলায় বড় হওয়া ঐ প্রিয় শহরে পড়ে থাকে, থাকে পড়ে তার মনপ্রাণ।

আজ সময়ের ব্যবধানে যার যার জায়গাতে ওরা সবাই এতটাই ব্যস্ত যে, কারো সময় হয় না মুঠো ফোনে কথা পর্যন্ত বলার, নতুবা ইচ্ছে শক্তিটা মরে গিয়েছে নিজ সংসারে পদার্পণ এর সাথে সাথে।

আনন্দ উল্লাস আসলে এভাবে-ই কি হারিয়ে যায়? সময়ের ফাঁকে ফাঁকে চোরাবালি এ জনমের বাঁকে বাঁকে!

লেখক :
ব্যবসায়ী, প্রাক্তন আইন শিক্ষার্থী সেন্ট্রাল ল’ কলেজ, ঢাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর